September 26, 2018
  • ইসিকে গণসংহতি আন্দোলনের আইনি নোটিশ
  • লিটন-সাকিবের বিদায়ে চাপে বাংলাদেশ
  • বাংলাদেশে ঢোকার অপেক্ষায় আরও ৫ লাখ রোহিঙ্গা
  • মা হলেন অভিনেত্রী শায়লা সাবি
  • ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি
  • আইসিসি নিজেই মিয়ানমারের বিচারে সক্ষম: জাতিসংঘ মহাসচিব
  • প্রধান বিচারপতিকে বিতাড়িত করে শেখ হাসিনা বিশ্ব দরবারে কলঙ্কিত: রিজভী আহমেদ
  • মংলা-বুড়িমারী বন্দরে শতভাগ দুর্নীতি: টিআইবি
  • বাংলাদেশ থেকে অস্কারে যাচ্ছে ‘ডুব’
  • গল্প শুনবেন নুসরাত ফারিয়া

নায়িকা সিমলার কেচ্ছা কাহিনী


বার্তা৭১ ডটকমঃ ১৯৯৭ সনে নায়িকা সিমলার চিত্রজগতে আগমন প্রয়াত পরিচালক শহীদুল ইসলামের হাত ধরে “ম্যাডাম ফুলি” ছবিতে। প্রথম ছবিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার পেলেও পরবর্তীতে আর সেরকম ভূমিকায় দেখা যায় নি তাকে। ২০০৫ সন পর্যন্ত ২০-২৫ টি ছবিতে অভিনয় করলেও তেমন সাড়া জাগাতে পারেননি আর। প্রায়ই জড়িয়ে পড়েছেন বিতর্কে, মাদকাসক্তি থেকে আরম্ভ করে পরকীয়া প্রেমেও নানা গুঞ্জনের ডালপালা তৈরী হয়েছে তাকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে।

এই বছরের শুরুতে গুঞ্জন শোনা গেল সিমলা বিয়ে করেছেন মাহী নামক এক প্রবাসী প্রযোজককে। তথ্য অনুসন্ধান করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে নানা চমকপ্রদ কেচ্ছা কাহিনী। এই মাহীর বয়স আনুমানিক ২৩-২৪ বৎসর। নারায়নগঞ্জের এক অখ্যাত মাদ্রাসায় পড়াশোনায় তার। এরপর বখাটে জীবন। উক্ত মাহী, পুরো নাম মাহী বি জাহান। নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁয়ের এক দোকানদার পিতার সন্তান। মাদ্রাসায় পড়াশোনা করার পর নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের সাথে ওঠাবসা ছাড়াও আদম ব্যবসায়ীদের সাথে বিদেশে লোক পাঠানোর নামে প্রতারণা শুরু করে। মালয়েশিয়ায় কিছুদিন চাকুরীও করে, এছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সাথে উঠাবসার মাধ্যমে বিদেশে লোক পাচারের ব্যবসায়ীদের সাথে জড়িয়ে পড়ে। উক্ত মাহী বিবাহিত এবং একটি পুত্র সন্তানও আছে। এই প্রথম বিয়ে এবং লুকিয়ে সে বিভিন্ন বয়স্ক মহিলাদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে শুধুমাত্র ঐসব মহিলাদের টাকা পয়সা এবং সম্পদ হাতানোর জন্য। পিতার দোকান দেখাশোনার পাশাপাশি ছোট খাট ভিডিও, সিডির ব্যবসা শুরু মাহী।এই সূত্রে পূণরায় বাংলাদেশে আসা যাওয়া এবং মিডিয়া জগতে আনাগোনা। পরিচালক রশিদ পলাশকে দিয়ে বিগত দুই বছরে দুইটি মিউজিক ভিডিও তৈ্রী করে মাহী। সেই সূত্রে রশীদ পলাশের সাথে ঘনিষ্ঠতা, মিরপুরের শ্যাওড়াপাড়ায় বাসা নিয়ে বন্ধু বান্ধবদের নিয়ে মদ, গাঁজা এবং ইয়াবার আসর বসায়। এইসব আসরে নিম্ন শ্রেণির তথাকথিত মডেলদের নিয়ে চলত রাত ব্যাপি উৎসব। উশৃঙ্খ্ল মাহীর এইসব আচড়ন তখন এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। মাহীর বন্ধুদের মধ্যে এক্ষেত্রে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, মাদকসেবীরাও ছিল।

পরবর্তীতে মাহী “কবর” নামক টেলিফিল্ম তৈরী করার জন্য রশিদ পলাশের সাথে চুক্তিবধ হয়। এই টেলিফিল্মটির প্রিমিয়ার ক্ষেত্রে নায়িকা সিমলার সাথে মাহীর পরিচয় করিয়ে দেয় পলাশ। উল্লেখ্য যে, রশিদ পলাশের “নাইওর” ছবির একজন অভিনেত্রী সিমলা। যদিও শোনা যায় ছবিটি অসমাপ্ত এবং কোনদিনো আলোর মুখ দেখবে না। এই অনুষ্ঠানে সিমলা জানতে পারে যে মাহী একজন প্রযোজক এবং পলাশের পরবর্তী ছবি “প্রীতিলতা”র প্রযোজকও মাহী। সিমলা অনেকদিন ধরেই তার “ম্যাডাম ফুলি” ছবির সিকুয়্যাল “ম্যাডাম ফুলি-২” করার জন্য একজন প্রযোজক খুঁজছিল দীর্ঘদিন ধরে। এমনকি সিমলা ২০১৫ সালে আমেরিকা গিয়েছিল এই প্রযোজক খুঁজতে। কিন্তু বাংলাদেশের কোন প্রযোজক/পরিচালক-ই বিগত যৌবনা সিমলার কোন ছবির ব্যাপারে উৎসাহ দেখায়নি। এই অনুষ্ঠানে মাহীর সাথে পরিচয় হওয়ার সাথে সাথেই সিমলা টার্গেট করে মাহীকে তার প্রযোজক হিসাবে। অর্ধশিক্ষিত মাহীর ব্যাপারে কোন খোঁজখবর না নিয়েই সিমলা অনেকটা বেপোরোয়া হয়েই মাহীকে দৈহিক আকর্ষোনের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠ করে। কারণ সিমলা বিগত কয়েক বছর ধরেই হতাশায় ভুগছিল। মাদকাসক্তি, বেপোরোয়া, উশৃঙ্খ্ল জীবন যাপনের জন্য ঢাকার নির্মাতারা সিমলাকে এড়িয়ে চলত। গত ৭-৮ বৎসর ধরে সিমলার কোন কাজই ছিল না। তার উশৃঙ্খলার জন্য ক্যারিয়ারে নেমে আসে হতাশা। “নাইওর” ও “নিষিদ্ধ প্রেমের গল্প” দুইটি ছবিও আলোর মুখ আজও পর্যন্ত দেখেনি। শুধু তাই নয় “নিষিদ্ধ প্রেমের গল্প” ছবির পরচালক রূবেলের সাথে সিমলা জড়িয়ে পড়ে বিতর্কে। এই নিয়ে পত্র পত্রিকায় নানা মুখরোচক গল্প তৈ্রী হয়। তবে আশ্চর্যের বিষয় “নিষিদ্ধ প্রেমের গল্প” ছবির কাহিনীই যেন বাস্তব রূপ ণীয়ে নেমে আসে সিমলার জীবনে। নিষিদ্ধ প্রেমের কাহিনীতে লন্ডন ফেরত এক বয়স্ক মেয়ের সাথে দৈহিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এক কলেজের ছাত্র এবং রূপ নেয় এক নিষিদ্ধ প্রেমের। অদ্ভুত আশ্চর্‍্য্যভাবে সিমলা নিজের জীবনেও জড়িয়ে পড়ে এই একই ঘটনার। সিমলার আনুমানিক বয়স এখন ৪০ এর কোঠায়। ১৯৯৭ সালে ২০ বৎসর বয়সে চিত্রজগতে আসে। তার প্রথমদিকের একটি পাসপোর্টে জন্ম তারিখ ১৯৭৭ ইং সন। পরবর্তীতে বয়স কমানোর জন্যে পাসপোর্টে ১৯৮২ ইং সন দেখায়। কিন্তু অনুসন্ধান করে তার স্কুল এবং কলেজের জন্ম সার্টিফিকেটে দেখা যায় জন্ম সন ১৯৭৭। শৈ্লকুপায় খোঁজ নিয়েও তার জন্ম নিবন্ধনের তারিখ ১৯৭৭ অর্থাৎ সিমলার বর্তমান বয়স ৪০ বৎসর। অথচ সে বিয়ে করেছে ২৩-২৪ বৎসরের এক ছেলেকে। এ শুধু সিমলার লালসা ও বিকৃ্ত মনেরই পরিচয়।

প্রকৃ্ত তথ্য অনুসন্ধান করে জানা যায়, শুধু লোভের বশবর্তী এবং তার “ম্যাডাম ফুলি-২” এর প্রযজকের জন্যে কোন তথ্য যাচাই বাছাই না করেই সিমলা ঝাঁপিয়ে পরে এক ২৩-২৪ বৎসরে তরূনের উপর। শারিরীক সম্পর্ক তৈরী করে এক তরূনকে আবিষ্ট করে তোলে। শুধু তাই নয় আরও জানা গেছে যে সিমলা ও মাহী উভয়ই একে অপরকে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যেই এই বিয়ে নামক প্রহসনের জন্ম দিয়েছে।
পরিচালক রশিদ পলাশের সূত্রমতে গত সেপ্টেম্বরে সিমলা ও মাহীর পরিচয় পর্বে মাহী চাপাবাজী করে বলে যে সে বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান, নারায়নগঞ্জে বিশাল সম্পত্তি, ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডে বাবার বাড়ি ও ব্যবসার একমাত্র উত্তরাধিকারী সে। তার কাছে কোটি কোটী টাকা আছে। “প্রীতলতা” সহ অন্যান্য ছবিও সে প্রযোজনা করতে পারবে। এই কথায় সিমলা লোভে পরে, সে ছলে বলে কৌশলে মাহীকে আয়ত্তে আনতে চায় যাতে তার “ম্যাডাম ফুলি-২” ছবিটি বাস্তবায়ন করতে পারে। এছাড়াও সিমলা মাহীর তথাকথিত সম্পত্তির প্রতিও লোভের বশবর্তী হয়ে মাহীকে কাবু করে।

অন্যদিকে রশিদ পলাশের নিকেতনের অফিসে সিমলা ও মাহী প্রায়ই যাতায়াত শুরু করে এবং প্রতিনিয়ত আড্ডা দেয়। ঐ আড্ডায় সিমলাও গল্পের ছলে মাহীকে আকর্ষন করার উদ্দেশ্যে বলে যে তার ঢাকা, কলকাতা ও মুম্বাইতে বাড়ী আছে। বাড়ী, গাড়ী ছাড়াও ধাকায় বিভিন্ন ব্যবসায় প্রায় ১০ কোটি টাকা লগ্নি করা আছে। অর্থাৎ সিমলাও অনেক টাকা পয়সার মালিক। এদিকে ঘনিঢটতার সূত্র ধরে সিমলা মাহীকে তার ৩২ পশ্চিম মালিবাগের (ডাক্তারের গলি) বাসায় নিয়ে যায়। মাহী ঐ বাসায় অবাধে যাতায়াত করে এবং বাসায় কেউ না থকায় সে সুযোগ পেয়ে বসে। সিমলার বাড়ি, গাড়ির লোভে পরে মাহীও বুঝতে পারে অভিভাবকহীন সিমলার বাড়ী, গাড়ী সে অনায়াসে ভোগ এবং পরবর্তীতে দখল করতে পারবে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে আরও জানা যায়, উক্ত মাহী একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য। দেশের বাইরে ও ভিতরে চিহ্নিত অপ্রাধীদের সাথে তার যোগাযোগ। তার ৪-৫ টি পাসপোর্ট ও প্রায় ৩০ টির অধিক মোবাইল সিম আছে, যা প্রয়োজনমত ব্যবহার করে। সিমলার অরক্ষিত বাসা হয়ে উঠে তার জন্য গা ঢাকা দেওয়ার আদর্শ জায়গা।

সিমলার সাথে তথাকথিত বিয়ের পর মাহীকে আর কোথাও দেখা যায়নি। শোনা যায় ঢাকায় তার অনেক পাওনাদার ও প্রতারক চক্রের অন্যান্য সদস্যারা তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে। এদিকে সিমলাও হারিয়ে যায় তার চেনা জগৎ থেকে। তার বিবাহ সংক্রান্ত খবর ফেসবুক, অনলাইন নিউজ ও বিভিন্ন পত্রিকায় খবর প্রকাশ পাওয়ার পরে সিমলা ও মাহী কারো সাথে যোগাযোগে ব্যর্থ হয়।
শোনা যায় সিমলা ও মাহী আত্মগোপন করে আছে তাদের কৃ্তকর্ম ফাঁস হওয়ার ভয়ে। বর্তমানে তারা বুঁদ হয়ে আছে নেশার জগতে। মাহীর মিরপুরের ও উত্তরার বন্ধুদের সূত্রে থেকে পাওয়া খবরে জানা যায় সিমলা ও মাহী, সিমলার বাসা ছাড়াও মিরপুর, উত্তরা এমনকি টংগীর দিকে আত্মগোপন করে আছে। তারা কোথাও বের হয় না এবং সারাদিন চলে মদ, গাঁজা ও ইয়াবার আড্ডা।

সিমলা ও মাহীর বর্তমানে বিরোধ চরম আকার ধারন করেছে বলে জানা যায়। সিমলা তার ছবির প্রয়োজনীয় টাকার জন্যে মাহীকে চাপ দিলে, মাহী তা দিতে অপারগতা জানায়। সিমলা মাহীর আর্থিক অবস্থা যে চাপাবাজী ছিল তা বুঝতে পারে। ইতিমধ্যে মাহী সিমলাকে তার মালিবাগের বাড়ী ব্যাংকে মর্টগেজ (বন্ধক) রেখে টাকা জোগাড়ের জন্য সিমলাকে চাপ দিচ্ছে। অবস্থা দৃষ্টীতে মনে হচ্ছে লোভের বশবর্তী হয়ে সিমলা যে প্রহসনের বিয়ে করে মাহীকে, তা এখন আর কার্যকর হচ্ছে না। সিমলা বুঝে গেছে যে মাহী একটি প্রতারক এবং তার কাছে পাওয়ার আর কিছুই নেই। এদিকে মাহীও বুঝে গেছে যে সিমলার কাছ থেকে কিছু পাওয়া যাবে না। শোনা যায় পরিচালক রশিদ পলাশের প্ররোচনায় মাহী সিমলার সাথে প্রেমের অভিনয় করে এবং পরবর্তীতে বিয়েতে রাজী হয়। এদের উদ্দেশ্য ছিল সিমলার গল্প বলা সমগ্র টাকা পয়সা ও বাড়ি, গাড়ি হাতিয়ে নেয়া। রশিদ পলাশ পরিচালিত ও সিমলা অভিনীত “নাইওর” ছবি শেষ পর্যন্ত টাকার অভাবে করতে পারেনি। তার অন্যান্য ছবি বা নাটক অর্থাভাবে করা হচ্ছে না। আর এদিকে মাহীর কাছেও বাবার দেওয়া কিছু টাকা ছাড়া আর কিছুই নেই। ঢাকার বিলাসী ও উশৃঙ্খ্ল জীবন উপভোগ করতে প্রচুর টাকার প্রয়োজন। সুতরাং টাকার লোভে সিমলার মত বয়স্ক একজন হতাশ নায়িকাকে কাবু করা। বর্তমান অবস্থা উভয়ের জন্যই গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতিমধ্যে হতাশ সিমলা মুম্বাইর অন্ধকার জগতে যেখানে তার আগেও বিচরন ছিল। সেখানে নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি অবস্থান করে যাতে নিষিদ্ধ জগত থেকে টাকা উপার্জন করতে পারে। শোনা যায় সিমলা তার “ম্যাডাম ফুলি-২” ছবির জন্য হন্যে হয়ে উঠেছে। যেভাবেই হোক এই ছবি তার করতে হবে। ছলে বলে কৌশলে যেভাবেই হোক টাকা জোগাড় করতে হবে। এর জন্যে যেখানে নামা দরকার সেখানেই সে নামবে। অন্ধকার জগতের শেষ তলানীতে পৌঁছাতেও তার দ্বিধা নেই। পরিনাম এই অসম প্রহসনের বিয়ে। প্রচন্ড মাদকাসক্ত সিমলা তার হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে কান্ডজ্ঞানহীন কার্যকলাপ করে যাচ্ছে।

বিভাগ - : বিনোদন, লাইফস্টাইল

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য দিন