May 31, 2020
  • ১৫ জুন পর্যন্ত যে যে শর্ত মানতে হবে
  • পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাসার ৪ কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত
  • ১৫ জুন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ
  • সরকারি টেস্টেও ডা. জাফরুল্লাহর করোনা পজিটিভ
  • রাজধানীতে সবচেয়ে বেশি করোনা রোগী মিরপুরে
  • মার্কেট ও দোকানপাট খোলার সংখ্যা বাড়ছেই
  • জয়পুরহাট, নোয়াখালী ও কুমিল্লায় ৪৬ জনের করোনা জয়
  • দেশে ২৪ ঘণ্টায় আরো ১৬ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৯৩০
  • ৩ দিনের মধ্যে করোনার ওষুধ পাওয়া যাবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
  • কাজে যোগ দিয়ে ৫ নার্স করোনায় আক্রান্ত

স্কুটিতে দুই তরুণীর পুরো দেশ ভ্রমণের ‘দুঃসাহসিক’ অভিজ্ঞতা


বার্তা৭১ ডটকমঃ দেশের দুজন তরুণী সারাদেশের ৬৪ জেলার প্রত্যন্ত এলাকা ঘুরে রবিবার তাদের ভ্রমণের ইতি টানছেন। পেশায় চিকিৎসক সাকিয়া হক এবং মানসী সাহা, যারা মোটরবাইকে করে তাদের এই ভ্রমণ অভিযানের নাম দিয়েছিলেন ‘নারীর চোখে বাংলাদেশ’।

বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় এই বয়সের দুজন মেয়ের এভাবে মোটরবাইকে সারাদেশ ঘুরে বেড়ানো বেশ বিরল শুধু নয়, দুঃসাহসিকও বটে। এই ভ্রমণের সময় দেশের নানা দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার পাশাপাশি তারা সামাজিক সচেতনতামূলক কাজেও অংশ নিয়েছেন।

সাকিয়া হক বলছিলেন, এই ভ্রমণ অভিযানের চিন্তা মেডিকেল কলেজে তৃতীয় বর্ষে পড়ার সময় তাদের মাথায় আসে। সেটা চার বছর আগের কথা। মেয়েরাও যে মোটর সাইকেলে চড়ে দেশ ঘুরতে পারে, সেটাই তারা প্রমাণ করতে চেয়েছেন বলে জানান। বলেন, ‘মেয়েরাও যে মোটর সাইকেলে চড়ে দেশ ঘুরতে পারে সেটা দেশের মানুষ কখনই ভাবেনি। আমরা নিজেরাও ভাবিনি যে আমরা আসলে পারবো।’

২০১৭ সালের ৬ এপ্রিল তাদের এই যাত্রা শুরু হয়। দুই বছর পরে ৫ এপ্রিল তারা সম্পন্ন করেছেন ৬৪ জেলা সফর। এই সফরে প্রতিটি জেলায় একটি করে স্কুলে তারা মেয়েদের সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন।

কিন্তু কতটা সহজ ছিল এই সফর? তারা বলেন- প্রতিকূলতা ছিল দুই ধরনের- রাস্তায় এবং স্কুলে।

সাকিয়া হক বলেন, রাস্তার প্রতিকূলতা ছিল বেশি। ‘অনেক সময় রাস্তায় অন্য যেসব যানবাহন চলতো, যেমন গাড়ি রিকশা – এসব যখন চলতো তারা [লোকজন] দেখা যেত পেছনে ফিরে আমাদের দিকে তাকিয়ে হাসাহাসি করতো।’

তিনি বলেন, ‘আর অন্যান্য মোটর বাইকে যখন আমাদের পাশ দিয়ে যেত এবং দেখতো যেকোনো মেয়ে বাইক চালাচ্ছে তখন তারা ইচ্ছে করে আমাদের সামনে দিয়ে একে-বেঁকে চালাতো আমাদের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির জন্য। এজন্য একবার আমাদের দুর্ঘটনার মুখেও পড়তে হয়েছে, যদিও সেটি খুব গুরুতর ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেকে বলতো কেয়ামত চলে এলো বেটি মানুষরাও (মেয়েরাও) হোন্ডা চালায়।’

তারা বলছেন, এসব কথায় কান দিলে আগাতে পারতাম না। আমরা যেহেতু বিভিন্ন স্কুলে যেতাম, মেয়েদের ইভটিজিংসহ নানা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য। সেখানেও অনেক সময় আমাদের প্রতিকূলতার মধ্যে পড়তে হয়েছে।

এই দুই তরুণী বলেন, ‘কোথাও কোথাও স্কুল কর্তৃপক্ষ হয়তো বেশ রক্ষণশীল মানসিকতার ছিল, যার কারণে তারা বলতো ‘ইভটিজিং নিয়ে মেয়েদের জানানোর কী দরকার, ইভটিজিং তো মেয়েদেরই দোষ।’

এভাবে দু’জন মেয়ের মোটর বাইকে দেশ ঘোরার ক্ষেত্রে কতটা নিরাপদ বলে মনে হয়েছে? তারা বলেন, ‘রুট প্ল্যান আমরা আগে থেকেই করেছি। সন্ধ্যার আগে অর্থাৎ দিনের মধ্যে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। এছাড়া সব জেলাতেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বা পুলিশকে জানিয়ে গিয়েছি।’

সাকিয়া হক বলেন, ‘কিছু কিছু রাস্তা আছে যেগুলো হয়তো গা ছমছম করা অন্ধকার, তাছাড়া খুব একটা প্রতিবন্ধকতায় পড়তে হয়নি। মানুষ খুব হেল্প-ফুল ছিল।’

তার নিজের মা বিষয়টিকে শুরুর দিকে ইতিবাচকভাবে নিতে পারেননি, তবে এখন তিনি বিষয়টিতে উৎসাহ দিচ্ছেন জানান মিজ হক।

সাকিয়া হক ‘ট্রাভেলেটস অব বাংলাদেশ-ভ্রমণকন্যা’ নামে মেয়েদের নিয়ে ভ্রমণবিষয়ক একটি সংগঠন গড়ে তুলেছেন। কিন্ত প্রথম দিকে তার এই পরিকল্পনার জন্য অন্য মেয়েদের সঙ্গী হিসেবে খুঁজে পাচ্ছিলেন না, তবে ধীরে ধীরে মেয়েদের আগ্রহ বাড়তে থাকে। -বিবিসি বাংলা

বিভাগ - : লাইফস্টাইল

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য দিন