
আজ সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডি.আর.ইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তন ছাত্রলীগ নেতা রাকিব হত্যার দ্রুত বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন রাকিবের মাকসুদা হোসেন ও তার পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে রাকিবের মা কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, বেদনাহত মন আর গভীর হতাশা নিয়ে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি। মা হয়ে নিহত সন্তানের ন্যায় বিচার চাইতে আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি।
২০১৮ সালের ৭ই ডিসেম্বর রাতে সন্ত্রাসী খুনিদের চাপাতির কোপে নির্মমভাবে নিহত হয় আমার সন্তান রাকিব। আমার বুকের ধন রাকিব তেজগাঁও কলেজ থেকে বিবিএ পাশ করে তিতুমীর কলেজের এমবিএ’র ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিল। রাকিব পড়ালেখায় যেমন মেধাবী ছিল মানুষের বিপদে-আপদে সবসময় ঝাপিয়ে পড়তো। রাকিব ছিল রাজনীতি সচেতন। মানুষের অধিকার সচেতন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতি করতো। বনানী থানাধীন ১৯ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি ছিল। এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিল। এ কারণেই মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের শত্রুতে পরিণত হয়।
২০১৮ সালের ৬ই ডিসেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ১২ টা ১৫ মিনিটে বনানী থানাধীন কড়াইল আনসার ক্যাম্প সংলগ্ন দুলাল মিয়ার বাড়ির সামনে আমার সন্তানকে হত্যা ও ওর সাথে থাকা বন্ধু নুর ইসলামকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে কড়াইলের মোশাররফ বাজার বস্তির শফিকুল ইসলাম ওরফে সজীব ওরফে বোচা সজীব, জসিম ও অজ্ঞাত সাত থেকে আটজন। যা পরবর্তীতে আহত নুর ইসলামের কাছ থেকে জানা যায়। ওই দিনই বনানী থানায় শফিকুল ইসলাম ওরফে সাজিব ওরফে বোঝা সজীব, জসিম ও অজ্ঞাত ৭/৮ জনকে আসামী করে মামলা করা হয়। গত ৭ই ডিসেম্বর আমার সন্তান হারানোর তিন বছর পূর্ণ হলো। কিন্তু অদ্যবধি আমার সন্তান হত্যার বিচার পাইনি। খুনিদের সবাইকে গ্রেফতার করা হয়নি। শফিকুল ইসলাম ওরফে সজীব ওরফে বোচা সজীব জামিন নিয়ে বের হয়ে এসে আমাদের হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। আমার সন্তান হত্যায় কারো কিছু হবে না বলে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে, উপহাস করছে।
মাননীয় আদালতে আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটি এখন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-(পিবিআই) তদন্ত করছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় গেলেও তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়নি পিবিআই। একদিকে খুনিরা মুক্ত জীবন যাপন করছে, আমাদের পরিবারকে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে, পুলিশ সকল খুনিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি; অন্যদিকে তদন্ত ও বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা চলছে। এমতাবস্থায়, আমরা হতাশ হয়ে পড়ছি। মনে বারবার উঁকি দেয় একটি প্রবচন- Justice delayed, justice denied. সন্তান হারিয়ে কাঁদতে কাঁদতে আমাদের চোখের পানি শেষ হয়ে গিয়েছে।
এভাবে আর কতদিন খুনিরা মুক্ত বিহঙ্গের মতো ঘুরে বেড়াবে, দাপিয়ে বেড়াবে, সন্ত্রাস করবে? কতদিন আমাদের অপেক্ষায় থাকতে হবে বিচারের? বিচারের বাণী কেন নিভৃতে কাঁদে? তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে আরো বলেন, আপনাদের মাধ্যমে আমরা, আমাদের সন্তানের হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। দাবি জানাচ্ছি দ্রুত তদন্ত করে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে। তাহলে নিহত রাকিবের আত্মা অন্তত শান্তি পাবে। কোন কিছুই আমাদের সন্তান রাকিবকে ফিরিয়ে দিতে পারবে না, কিন্তু ন্যায়বিচার পেলে আমাদের হতাশা, আমাদের গ্লানির শেষ হবে। এযাবতকাল এই সরকার এর আমলে অনেক হতার বিচার হয়েছে,কিন্তু অতীব দুঃখের সাথে বলতে চাই আমের ছেলে রাকিব পদ ধারি নেতা হইও গত তিন বছরেও সুস্পষ্ট কোন বিচার পাই নাই। এযাবতকাল পর্যন্ত সবার দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সহযোগিতা পাইনি এমতাবস্থায় আমি শুধু প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন, রাকিব হত্যার সময় আহত রাকিবের বন্ধু নুর ইসলাম। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন রাকিবের বাবা মোঃ আলতাফ হোসেন, বড় ভাই তারেক হোসেন রনি।











