নিজস্ব প্রতিবেদক :
সরকারবিরোধী আন্দোলনে ব্যস্ত জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। তার বিপরীতে অবস্থান নিয়ে “শান্তি সমাবেশে” কর্মীদের সক্রিয় রেখেছে ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এবার যেন সেই সমাবেশে নতুন মাত্রা যুক্ত হতে যাচ্ছে। এক দিনেই, একই সময়ে ৬৪ জেলাসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সারাদেশ “শান্তি সমাবেশ” করবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এক অভ্যন্তরীণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। রোববার দুপুরে রাজধানীর ধানমণ্ডিস্থ ৩/এ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভা সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি সারাদেশের প্রতিটি জেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে এক যোগে “বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্য ও সহিংসতার প্রতিবাদে” “শান্তি সমাবেশ” করবে ক্ষমতাসীন দলটি।
জেলার নেতাদের সঙ্গে যোগ দেবেন কেন্দ্রীয় নেতারা। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের বিভিন্ন জেলায় গিয়ে সমাবেশে অংশ নেয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ।
সূত্র জানিয়েছে, এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদেরকে জেলা ও উপজেলা ভাগ করে দেয়া হয়েছে।
ওই সভায় উপস্থিত থাকা আওয়ামী লীগের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, আমাদের চলমান শান্তি সমাবেশ আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। তারই ধারাবাহিকতায় আগামী ১১ তারিখ (ফেব্রুয়ারি) সাবাদেশের প্রতিটি ইউনিয়নে আমরা শান্তি সমাবেশ করছি।
তিনি জানান, কেন্দ্রীয় নেতারা একেকজন একেক জায়গায় দায়িত্ব পালন করবেন।
অপর এক সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক হলেও তিনি শান্তি সমাবেশে থাকবেন খুলনায়। জয়পুরহাটে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। যশোরে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগ দেবেন আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক। নিজ জেলা নড়াইলে থাকবেন আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মাশরাফি বিন মর্তুজা, রাজবাড়ী জেলায় থাকবেন বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন।
এদিকে গত ১০ জানুয়ারি থেকে সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে নামে বিএনপি। দলটির ১০ দফা দাবির সঙ্গে একাগ্রতা প্রকাশ করে আরও কিছু রাজনৈতিক দল। ১০ জানুয়ারির পর আরও কয়েক দফা আন্দোলন করেছে দলটি। সবশেষ গত শনিবার রাজধানীর পল্টন, সিলেট, চট্টগ্রাম ময়মনসিংহ, বরিশাল, খুলনা, রংপুর সমাবেশ করে বিএনপি।
এদিকে বিএনপির এসব আন্দোলনের বিপরীতে অবস্থান নিয়ে “শান্তি সমাবেশ” করছে আওয়ামী লীগ। জনগনের জানমাল রক্ষার চেষ্টায়, আগুন সন্ত্রাস, বাসে অগ্নি সংযোগ, দেশে বিদেশে গুজব ছড়ানো, সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেয়ার কারণে দেশব্যাপী বিএনপি জামায়াতের নৈরাজ্য ও তাণ্ডবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে শান্তি সমাবেশ করছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।
রাজধানীতে এসব সমাবেশে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নিয়মিত যোগ দান করছেন। এছাড়াও দলটির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ বিএনপির কর্মসূচির দিনেই তাদের সমাবেশ পালন করছে। তাদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলো। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতারা অবস্থান নিচ্ছেন নিজ নিজ ওয়ার্ডে।
শনিবার বিএনপি ঘোষিত বিভাগীয় সমাবেশের দিন ঢাকাসহ দেশের প্রতি বিভাগে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে পালিত হয়েছে শান্তি সমাবেশ। এসব সমাবেশে কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকেও যোগ দিতে দেখা গেছে।
এবার আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি সেই শান্তি সমাবেশ পৌছে যাচ্ছে সারা বাংলাদেশের ইউনিয়ন পর্যায়ে ।












