
বার্তা৭১ ডটকমঃ আলোচিত সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে।সোমবার (২৩ আগস্ট) কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম দিন তিনজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের কথা থাকলেও সময় স্বল্পতার কারণে শুধু বাদির সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
সাক্ষ্য দেয়ার সময় আদালতকে মামলার বাদী মেজর সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌসি বলেন, ওসি প্রদীপের নির্দেশেই ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলীর গুলিতে সিনহা মো. রাশেদ খান নিহত হয়। ঘটনার সরাসরি প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ জেনে ঘটনার পাঁচ দিন পর ২০২০ সালের ৫ আগস্ট আমি বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করি।
মামলায় সাক্ষ্য দিতে ৮৩ জন সাক্ষীর মধ্যে প্রথম দফায় তিন দিনে ১৫ জনকে উপস্থিত থাকতে সমন দেয়া হয়।
মামলার আসামিরা হলেন- বাহারছড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সাবেক পরিদর্শক লিয়াকত আলী, টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল-মামুন, মোহাম্মদ মোস্তফা, এপিবিএনের তিন সদস্য এসআই মোহাম্মদ শাহজাহান, কনস্টেবল মোহাম্মদ রাজীব, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, পুলিশের মামলার তিন সাক্ষী নুরুল আমিন, নেজাম উদ্দিন, মোহাম্মদ আয়াজ, টেকনাফ থানার সাবেক কনস্টেবল রুবেল শর্মা ও সাবেক এএসআই সাগর দেব।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দফার ১৫ জন সাক্ষীর মধ্যে মামলার বাদী ছাড়াও আদালতে হাজিরা দেন শামলাপুর এলাকার মো. আবদুল হামিদ ও মোহাম্মদ ইউনুস। মঙ্গলবার তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে।
মামলার মোট ১৫ জন আসামির সবাইকেই কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে কড়া পুলিশ পাহারায় আদালতে আনা হয়। আদালতে তাদের উপস্থিতিতেই সাক্ষ্য গ্রহণ, বাদী-বিবাদীর আইনজীবীদের যুক্তি-তর্ক ও জেরা হয়।
এর আগে গত ২৬, ২৭ ও ২৮ জুলাই সাক্ষ্য দেওয়ার দিন ধার্য থাকলেও করোনাভাইরাস মহামারি পরিস্থিতি বিবেচনায় তা পিছিয়ে যায়। গত ১৬ আগস্ট আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে ২৩, ২৪ ও ২৫ আগস্ট সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করে আদেশ দেন।
গত বছর ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।
এ ঘটনায় শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ নয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় লিয়াকত আলীকে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে র্যাবকে তদন্তের দায়িত্ব দেন।
মেজর (অব.) সিনহা নিহতের ছয় দিন পর সাবেক পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও সাবেক ওসি প্রদীপসহ সাত পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার অভিযোগে টেকনাফ থানায় পুলিশের দায়ের করা মামলার তিন সাক্ষী এবং শামলাপুর চেকপোস্টে ঘটনার সময় দায়িত্ব পালনকারী আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এক পর্যায়ে পলাতক টেকনাফ থানার সাবেক কনস্টেবল রুবেল শর্মাকেও গ্রেপ্তার করে র্যাব।সর্বশেষ গত ২৪ জুন মামলার একমাত্র পলাতক থাকা আসামি টেকনাফ থানার সাবেক এএসআই সাগর দেব আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়েকের শামলাপুর চেকপোস্টে গাড়ি তল্লাশিকে কেন্দ্র করে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।










