
সফরকারী আফগানিস্তানের বিপক্ষে এক ম্যাচ হাতে রেখে ওয়ানডে সিরিজ জেতায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়, কোচ ও ম্যানেজারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শুক্রবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টাইগারদের সিরিজ জয় নিশ্চিত হওয়ার পর পৃথক বার্তায় এ অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।
অভিনন্দন বার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, এক ম্যাচ হাতে রেখেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন। টাইগারদের জয়ের এ ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিনন্দন বার্তায় বলেন, আফগানিস্তানের বিপক্ষে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই ওয়ানডে সিরিজ জয়লাভ করায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে প্রাণঢালা অভিনন্দন।
এদিন সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩০৬ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। শুরুতে তামিম-সাকিব পড়ে যাওয়ার পর ১৮৬ বলে ২০২ রানের দুর্দান্ত পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন লিটন কুমার দাশ ও মুশফিকুর রহীম।
২ ছক্কা ও ১৬ চারে ১২৬ বলে ১৩৬ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন লিটন। অন্যদিকে, মুশফিক খেললেন ৯ চারে ৯৩ বলে ৮৬ রানের দারুণ এক ইনিংস। এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৩ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করলেন মুশফিক।
এ দুই ব্যাটারের আউট হওয়ার পর দলীয় সংগ্রহ ৩০০ রান ছাড়িয়ে নিয়ে যান গত ম্যাচের নায়ক আফিফ হোসেন ধ্রুব ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। আফিফ করেন ১২ বলে ১৩ রান আর মাহমুদউল্লাহ ৯ বলে ৬ রান।
স্বাগতিদের দেয়া ৩০৭ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে বিপদে পড়ে আফগানিস্তান। শুরুতেই তিন উইকেট হারায় সফরকারিরা।
দলীয় মাত্র ৯ রানের সময় রিয়াজ হাসান রান আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন। তাকে রান আউট করেন আফিফ হোসেন। তিনি ২ বল খেলে মাত্র ১ রান করেন।
এরপর দলীয় ১৬ রানের মাথায় অধিনায়ক হাসমাতুল্লাহ শাহিদী শরিফুলের বলে মুশফিকের হাতে ধরা পড়েন। তিনি ৩ বল খেলে ৫ রান করেন।
অধিনায়কের পর ৩৪ রানের সময় ৯ রান করে আজমাতুল্লাহ ওমরাইজও প্যাভিলিয়নের পথে হাঁটেন। সাকিব আল হাসানের বলে স্ট্যাম্পিং হন তিনি।
এরপর দলের হাল ধরেন নাজিবউল্লাহ জাদরান ও ওপেনার রহমত শাহ। তারা দু’জন মিলে চতুর্থ উইকেটে বড় জুটি গড়ার পথে আগাতে থাকেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিলেন এ দুজন। ৮৯ বলে তারা ৯০ রানের জুটি গড়েন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।
বিপজ্জনক এ জুটি ভাঙেনপেসার তাসকিন আহমেদ। ম্যাচের ২৫তম ওভারে ওপেনার রহমত শাহকে বোল্ড আউট করেন তিনি। আউট হওয়ার আগে ৭১ বল খেলে ৫২ রান করেন রহমত।
এরপর আবারো আঘাত হানেন তাসকিন। দলীয় ১৪০ রানে বাংলাদেশি এ তারকা পেসারের বলে মুশফিকের হাতে ধরা পড়েন নাজিবুল্লাহ জাদরান। আউট হওয়ার আগে ৬১ বলে ৫৪ রান করেন তিনি। নাজিবুল্লাহ আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচেও ফিরে বাংলাদেশ।
এরপর অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ মোহাম্মদ নবীকে আউট করেন। সাজঘরে ফেরার আগে ৩৮ বলে ৩২ রান করে লং অফে আফিফ হোসেনকে ক্যাচ দেন নবি। সর্বশেষ ১০ উইকেট হারিয়ে মাত্র ২১৮ রান করেছে আফগানিস্তান।












