
স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার কোনো শিক্ষক আর নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং বা প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না।
তবে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট অংকের টাকা নিয়ে তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরই ‘অতিরিক্ত ক্লাস’ নিতে পারবেন।
এই নিয়ম রেখে বৃহস্পতিবার ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধে নীতিমালা-২০১২’ চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সভা শেষে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সাংবাদিকদের বলেন, “নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং করাতে না পারলেও শিক্ষকরা দিনে অন্য প্রতিষ্ঠানের ১০ জন শিক্ষার্থীকে বাড়িতে পড়াতে পারবেন। তবে এ বিষয়ে শিক্ষককে প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছে প্রতিবেদন দিতে হবে।”
আইন ভঙ্গকারী শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিল করা হবে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী জানান, নিজের প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার ক্ষেত্রে মহনগরী এলাকার প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মাসে তিনশ টাকা, জেলা পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দুইশ টাকা এবং উপজেলা ও অন্যান্য এলাকার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দেড়শ টাকা নেওয়া যাবে।
“তবে এই টাকার ১০ শতাংশ বিদ্যালয়ের পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস খরচ ও কর্মচারীদের জন্য রাখা হবে। বাকি টাকা শিক্ষকরা পাবেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ এই অর্থ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকবে।”
কারা, কীভাবে, কোথায় কোচিং বাণিজ্য করছে- তা খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিলো জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “তারা প্রতিবেদন দিয়েছে। প্রতিবেদনের সুপারিশের আলোকেই নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, এ নীতিমালার আলোকে শিক্ষকরা ক্লাসের দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করতে পারবেন। তবে কোনো শিক্ষার্থীকে ক্লাস করতে বাধ্য করা যাবে না। অভিভাবকের মতামতের ভিত্তিতেই এ ক্লাস নিতে হবে।
কোনো শিক্ষক নীতিমালা না মানলে তার এমপিও বাতিল করা হবে জানিয়ে নাহিদ বলেন, প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিল করা হবে।
শিক্ষাসচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী জানান, কোচিং বাণিজ্য বন্ধে নীতিমালাটি শিগগিরই বিজ্ঞপ্তি আকারে জারি করা হবে।
তিনি জানান, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান, শিক্ষাবিদসহ সংশি¬ষ্টরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে নীতিমালা চূড়ান্তকরণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
কমিটি গঠন
নীতিমালা বাস্তায়ন হচ্ছে কি না- তা তদারকি করতে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে মনিটরিং কমিটি করা হবে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর ও শিক্ষা বোর্ডকেও কমিটি গঠনে সম্পৃক্ত করা হবে।
শিক্ষাসচিব জানান, উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), জেলা পর্যায়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) এবং বিভাগীয় পর্যায়ে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার তদারকি কমিটির প্রধান হিসাবে থাকবেন।
মন্ত্রী বলেন , “কোচিং বাণিজ্য বন্ধে ব্যাপকভাবে প্রচারণা চালানো হবে। শিক্ষার্থীদের সচেতন হতে হবে। অভিভাবকদের খোঁজ নিতে হবে শিক্ষক এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের দায়িত্ব পালন করছেন কি না। আমরা বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকদের নৈতিকতা জাগ্রত করারও চেষ্টা করব।”
প্রথমবারের মতো কোচিং বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, “নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে গেলে এর ফাঁক-ফোঁকরগুলো ধরা পড়বে। তখন ভুলগুলো শুধরে নিতে পারব।”
স্কুলকেন্দ্রিক নয়- এমন কোচিং সেন্টার বন্ধে সরকারের উদ্যোগের বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “সরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা এমন কোচিং সেন্টারের সঙ্গেও জড়িত হতে পারবেন না। এসব কোচিং সেন্টার বন্ধে আলাদাভাবে একটি নীতিমালার কাজ চলছে।”
শিক্ষকরা কোচিং ও প্রাইভেট পড়নোর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় শিক্ষার কাক্সিক্ষত মান অর্জিত হচ্ছে না বলে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা চলছে। বিভিন্ন কোচিং সেন্টার ও শিক্ষকের বিরুদ্ধে ‘ভর্তি বাণিজ্যে’ জড়িত থাকারও অভিযোগ এসেছে বিভিন্ন সময়ে।
সরকারি এমপিওভুক্ত এবং রেজিস্টার্ড স্কুলের শিক্ষকদের কোচিংয়ে ক্লাস নেওয়ার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়ে গত বছর হাই কোর্ট একটি রুলও জারি করেছিল।










