
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে নিত্যপণ্যসহ বিশ্বে সব কিছুর দাম বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাই এখন রিজার্ভ ব্যবহার করে চলতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আজ শনিবার (৫ নভেম্বর) জাতীয় সমবায় দিবসের এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন সরকারপ্রধান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুদ্ধের জন্য সব কিছুর দাম বাড়ছে। আমাদের রিজার্ভ ব্যবহার করে চলতে হচ্ছে, এটা মানুষের জন্যই। পৃথিবীর অন্যান্য দেশও তাই করছে। তাই আমি আবারও বলব আমাদের মিতব্যয়ী হতে হবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘সারা বিশ্বে খাদ্যাভাব। আমাদের আরও উৎপাদন বাড়াতে হব। সঞ্চয় বাড়াতে হবে যাতে এই অভিঘাত আমরা মোকাবিলা করতে পারি।’
তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তবে আমি আশা করি, এ অবস্থা থাকবে না। দেশে সকলকে একটু সঞ্চয়ের দিকে নজর দিতে হবে।’
বৈশ্বিক সংকটে সমবায়ীদের উৎপাদন বাড়ানোর আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্বে যে সংকট চলছে তা যেন দেশে না হয়, সেজন্য সমবায়ীদের উদ্যোগী হতে হবে।
আশ্রয়ন প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের সমবায়ের অন্তভুক্ত করে সকলের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করতে বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রতিটি গ্রামে শহরের মতো সুযোগ-সুবিধা করে দেয়া হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রামেও শহরের মতো সুযোগ-সুবিধা দিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। যেখানে সেখানে বাড়িঘর করে যাতে ফসলি জমি নষ্ট না হয় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে যুব সমাজের অবদান ও সমবায়ের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, জীবন জীবিকা উন্নত করার জন্য প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব চিন্তা থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে সেই সুযোগটা আমরা করে দিতে চাই।
প্রধানমন্ত্রী জানান, জ্বালানী সংকট মেটাতে সোলার প্যানেলের উপর জোর দিচ্ছে সরকার। পরিকল্পনা আছে নেপাল ও ভুটানের সাথে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পেন মাধ্যমে বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর। জাতির পিতার আদর্শকে ধারণ করেই দেশ পরিচালনা করছে আওয়ামী লীগ সরকার।
সরকারকে উচ্চমূল্যে সার, জ্বালানি তেল এবং ভোজ্য তেল কিনতে হচ্ছে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সেদিকে লক্ষ্য রেখে সবাইকে মিতব্যয়ী এবং সঞ্চয়ী হওয়ার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।
খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশকে আরও এগিয়ে নিতে জনগণকে একত্রিত করে সমবায় গঠনের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দেশের যুব সমাজের প্রতি আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের যুব সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। যদি যুব সমাজ এগিয়ে এসে সমগ্র গ্রাম ও মানুষকে এক করে সমবায়ের মাধ্যমে কার্যক্রম চালাতে পারেন, তাহলে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবো। কারণ সবারই একটা দায়িত্ব থাকবে।’
তিনি যুব সমাজকে চাকরির পেছনে না ছুটে বরং সমবায় গঠনের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন যেমন হাঁস-মুরগি পালন, মাছ চাষ ও অন্যান্য কাজে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দেন।
এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিনা পয়সায় সবাইকে কোভিডের টিকা দিয়েছি রিজার্ভ ব্যবহার করে। যাতে সবাই সুস্থ থাকে। মানুষের কল্যাণই আমাদের লক্ষ্য।
আওয়ামী লীগ করোনা যুদ্ধ সফলভাবে মোকাবেলা করেছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সমবায়কে আরো শক্তিশালী করতে উৎপাদন ও সঞ্চয়ের ওপর জোর দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা যাতে কোনোমতেই ব্যহত না হয়, দুর্বার গতি ধরে রেখেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে। সমবায়ের মাধ্যমেই দেশ অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীতা অর্জন করবে।
বঙ্গবন্ধুর দর্শন সমবায়ে উন্নয়ন এমন প্রতিপাদ্যে ৫১তম জাতীয় সমবায় দিবস ও সমবায় পুরস্কার প্রধান অনুষ্ঠানে দশটি ক্যাটেগরিতে নয়টি সমবায় সমিতি ও একজন সমবায়ীকে পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।











