
বার্তা৭১ ডটকমঃ
হারের ঘেরো থেকে বের হতে পারছে না চ্যাম্পিয়নেরা। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স মাঝে একটি ম্যাচে জয়ের দেখা পেলেও হারের বৃত্তে আবারও। আজ দিনের প্রথম ম্যাচে দলটি ৩২ রানে হেরেছে ঢাকা ডাইনামাইটসের কাছে। এই নিয়ে আট ম্যাচের সাতটিতেই ফল জিরো।
ঢাকার ৪ উইকেটে ১৭০ রানের জবাবে ৮ উইকেটে ১৩৮ রান করে পয়েন্ট তালিকার সবচেয়ে নিচেই রইলো গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। ১৭১ রানের বড় লক্ষ্য অর্জনে যা যা প্রয়োজন, তার কিছুই পায়নি কুমিল্লা। দরকার ছিল মারদাঙ্গা একটি উদ্বোধনী জুটি। তা হয়নি কারণ ১৯ বলে ১৭ রান করে দলীয় ২৪ রানে বিদায় নেন ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত।
অন্য ওপেনার খালিদ লতিফ অবশ্য শুরুটা করেছিলেন ভালো । ৩৩ বলে চারটি চার ও একটি ছক্কায় ৩৮ রান করে তিনি হুমকি হয়ে উঠেছিলেন ঢাকার জন্য। ডোয়াইন ব্রাভোর বলে তুলে মারতে গিয়ে ডিপ মিডউইকেটে সানজমুল ইসলামের হাতে ক্যাচ দিয়ে তিনি ফেরেন সাজঘরে।
এরপর আর কোনও বড় জুটি গড়তে পারেনি কুমিল্লা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। ইমরুল কায়েস ৯, লিটন দাস ৫, অধিনায়ক মাশরাফি ১০ রান করে বিদায় নেন। তাড়াহুড়ো করে শট খেলে নিজের বিপদ ডেকে আনেন তারা। ধরে খেলার চেষ্টা করেছিলেন আহমেদ শেহজাদ। ২২ বলে ২২ রান করার পর আবারও ব্রাভো-সানজামুল কম্বিনেশনে বিদায় নেন তিনি।
হাল ধরার আর কেউ ছিল না কুমিল্লার। তাদের পরাজয় অবধারিত হয়ে যায় ইনিংসের মাঝামাঝি সময়েই। শেষ তিন ওভারে তাদের প্রয়োজন ছিল ৬০ রান। কিন্তু ছিল না স্বীকৃত কোনও ব্যাটসম্যান। ১২ বলে ১৪ রান করে যা একটু লড়াই চালিয়েছেন সোহেল তানভির। ৩২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ঢাকার সবচেয়ে সফল বোলার ব্রাভো।
এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে নামার প্রাথমিক উদ্দেশ্য সফল করে কুমিল্লাকে ১৭১ রানের লক্ষ্য দেয় ঢাকা।
দুই ওপেনার মেহেদী মারুফ ও শ্রীলঙ্কান তারকা কুমার সাঙ্গাকারার উদ্বোধনী জুটি ৪.৩ ওভারে ৩৮ রান করার পর বিচ্ছিন্ন হয়। স্পিনার নাবিল সামাদকে ডাউন দ্য উইকেট মারতে গিয়ে লিটন দাসের হাতে স্টাম্পড হন মারুফ। ১৭ বলে তিনটি চার ও একটি ছক্কায় ২২ রান করে সাজঘরে ফেরেন বিপিএলে এবারের আসরের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যাসটি।
ক্রিজে এরপর জুটি বাঁধেন শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটের সর্বকালের দুই সেরা নাম। সাঙ্গাকারার সঙ্গে মাঠে যোগ দেন মাহেলা জয়াবর্ধনে। ৪৫ রান আসে তাদের দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে। শুরুতে একটু ধীর গতিতে খেলা সাঙ্গাকারা রানের চাকায় গতি আনার উদ্যোগ নেন, শুরু করেন হাত খুলে খেলা। আফগান লেগ স্পিনার রশিদ খানের আর্ম বলে স্লগ করতে দিয়ে লাইন মিস করেন সাঙ্গাকারা। দেখেন ভেঙে গেছে তিন উইকেটের ভারসাম্য। চারটি চারে ২৮ বলে ৩৩ ছিল তার সংগ্রহ।
জয়াবর্ধনে তার স্বভাবসুলভ প্রয়োজনে সিঙ্গলস ও বাজে বল পেলেই মার ধারায় খেলে এগিয়ে চলছিলেন। তাকেও বোল্ড করেন রশিদ খান। সুইপ করতে গিয়ে বলে ব্যাটে করতে পারেননি মাহেলা, ‘থ্রু দ্য গেইট’ বা ব্যাট ও প্যাডের মাঝ দিয়ে বোল্ড হন ২৭ বলে চারটি চারে ৩১ রান করা সাবেক লঙ্কান অধিনায়ক।
দলকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব এসে পড়ে সাকিব আল হাসানের কাঁধে। সঙ্গে সহযোদ্ধা হিসেবে পান মোসাদ্দেক হোসেনকে। ১৮ বলে ২৫ রান করে নিজের কাজটি করে যান মোসাদ্দেক। ১৮ বলে দুটি চার ও একটি ছক্কায় ২৫ রান করে তিনি হন সোহেল তানভিরের বলে কট বিহাইন্ড।
সাকিব টিকে ছিলেন শেষ পর্যন্ত। ২৬ বলে ৪১ রান করে তিনি অপরাজিত রয়ে যান, আর দলকে দেন ১৭০ রানের বড় একটা সংগ্রহ। সেক্কুগে প্রসন্ন ছিলেন ১১ রানে অপরজিত।










