
আফ্রিকার উত্তরাঞ্চলীয় দেশ সুদানে সামরিক অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে সেনাবাহিনীর গুলিতে অন্তত ১৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন আরও বহু আন্দোলনকারী। বিতর্কিত সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বুধবার (১৭ নভেম্বর) কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী সড়কে নামলে হতাহতের ঘটনাটি ঘটে।
দেশটির চিকিৎসকদের বরাতে বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) করা প্রতিবেদনে তথ্যটি নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা। সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর থেকে গত প্রায় এক মাসে বুধবারই ছিল সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিন।
রয়টার্স বলছে, গেল ২৫ অক্টোবর সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের প্রতিবাদে বুধবার রাজধানী খার্তুমে বিক্ষোভে অংশ নেন হাজার হাজার মানুষ। এদিন রাজধানী ছাড়াও বাহরি ও ওমদুরমান শহরেও আন্দোলনে নামেন সাধারণ জনতা। তারা বেসামরিক কর্তৃপক্ষের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবিতে প্রতিবাদ করতে থাকেন। একই সঙ্গে তারা ২৫ অক্টোবরের অভ্যুত্থানে জড়িত সৈন্যদের বিচারের দাবিও জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে রয়টার্স জানাচ্ছে, বুধবারের ওই বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করা লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করতে সরাসরি তাজা গুলি ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেছিল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। এবার রাজধানী খার্তুমসহ তিনটি শহরে হওয়া বিক্ষোভে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে এসব শহরে মোবাইল ফোন সেবাও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়।
দেশটির রাষ্ট্রীয় মিডিয়াতে বলা হয়, বুধবারের ঘটনায় বিক্ষোভকারী ও পুলিশ উভয়পক্ষেই অনেকে আহত হয়েছেন।
আফ্রিকার এই দেশটির চিকিৎসকদের সংগঠন সেন্ট্রাল কমিটি অব সুদানিজ ডক্টরস জানায়, অভ্যুত্থানবিরোধী আন্দোলনকে ছত্রভঙ্গ করতে রাজধানী খার্তুমের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক গুলিবর্ষণ করেছে সামরিক সরকারের নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা বাহিনী। এতে হাজারেরও বেশি মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। হতাহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
চিকিৎসকদের এই সংগঠনটি এরই মধ্যে সুদানের গণতন্ত্রপন্থি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। তারা বলছে, বুধবার নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত বিক্ষোভকারীদের সবাই বাহরি শহরের।
এক প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সকে বলেছেন, বিক্ষোভের সময় লোকজন সড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে বাধা দিয়েছে। ফলে রাস্তাগুলো যানবাহন শূন্য হয়ে যায়। ওমডারমান শহর থেকে একজন জানান, লোকজন এখন খুব ভীত ও সন্ত্রস্ত অবস্থায় আছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গত ২৫ অক্টোবর অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতা দখলে নেওয়ার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী আব্দাল্লাহ হামদককে আটক করে সুদানের সামরিক বাহিনী। দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের এই ক্ষমতা দখলের বিরুদ্ধে হাজার হাজার নাগরিক প্রতিদিন আন্দোলন করছেন।
বিতর্কিত অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভকারীদের দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতায় এখন পর্যন্ত বহু প্রাণহানি এবং বেশ কয়েকজন গণতন্ত্রকামীকে আটক করা হয়েছে। পশ্চিমা বিশ্ব ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা সুদানে অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে বেসামরিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এবং সংস্থা সুদানে সামরিক অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে আটক নেতৃবৃন্দের দ্রুত মুক্তির আহ্বান এবং ভঙ্গুর প্রায় দেশটিতে অর্থনৈতিক সহায়তা বন্ধের হুমকি দিয়েছে তারা। সেনা অভ্যুত্থানের পরপরই ওয়াশিংটন তাৎক্ষণিকভাবে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে।











