
নিজস্ব প্রতিবেদক: সাপকে বিশ্বাস করা যায় বিএনপিকে বিশ্বাস করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সিকদার মেডিকেল কলেজে আহত কর্মীদের দেখতে এসে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
নানক বলেন, সাপকে বিশ্বাস করা যায়। বিএনপিকে বিশ্বাস করা যায় না। তারা তাদের সামর্থ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে৷ তারা মানুষের জানমাল নষ্ট করেছে। আবার মাঠে নেমেছে। ওরা গনতন্ত্র বোঝে না। আইনশৃঙ্খলা বানিহীকে যেভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমাদেরও মাঠে নামতে হবে৷’
তিনি বলেন, ‘হাজারীবাগের ঘটনায় দেশ টিভির সাংবাদিক দেলোয়ারকে মেরেছে৷ আমাদের হাজারীবাগের কর্মী এমনকি মহিলা কাউকে ছাড় দেওয়া হয়নি।’
এ ঘটনায় যারা জড়িত রয়েছে তাদেরকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনের আওয়াত আনতে হবে বলেও জানান আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য।
তিনি বলেন, ‘ওদেরকে (বিএনপিকে) প্রতিহত করার এখনই সময়। আর কোনো সুযোগ দেওয়ার হবে না।
আগামী ১০ ডিসেম্বর সারা জুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি। এই বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘তারা কর্মসূচি দিয়েছে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি তারা করে না। তারা সশস্ত্র অবস্থায় কর্মসূচি করতে চায়। জনগণের স্বার্থে, জনগণের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থ্যে তাদেরমে ছাড় দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। তাদেরকে প্রতিহত করব।’
আহতদের দেখতে এসে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাসিম বলেন, ‘বিএনপি সন্ত্রাসী দল। এমনকি নারীরাও তাদের হাত থেকে রক্ষা পায় না। আজকের অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে হসপিটালের করিডোরে আমরা দেখে আসলাম আমাদের সহযোদ্ধা, শান্তিপ্রিয় মানুষ শাহ আলম, আব্দুল্লাহ এবং আইরিন কিভাবে এই সন্ত্রাসী বিএনপি’র গুন্ডারা হামলা করেছে। ১৭টি সেলাই লেগেছে৷ একজনের মাথাকে ক্ষতবিক্ষত করেছে। তার কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ সে বেঁচে থাকবে কিনা আমরা জানি না এই অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। আমাদের নেতাকর্মীদের যারা ক্ষতবিক্ষত আহত হয়েছে এবং দেশ টিভির সাংবাদিককে নির্মমভাবে আহত করেছে। এটা হত্যাকারীর দল, এরা সন্ত্রাসী দল। এই সন্ত্রাসীদেরকে আমরা অবশ্যই মোকাবেলা করবো বাংলাদেশের শান্তির লক্ষ্যে, উন্নয়নের লক্ষ্যে৷’
তিনি বলেন, ‘আমরা কোন আঘাত হানতে চাই না। তবে আমরা কাউকে ছাড় দিতেও পারব না। কারণ এরা সুযোগ পেলে জাতি সাপের মত দংশন করে। এদের বিষদাঁত ভেঙে দেওয়ার জন্য আমাদের সকলকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
এর আগে সন্ধ্যায় হাজারীবাগের সিকদার মেডিকেল কলেজে যান আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান,ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ১ নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মোরশেদ হোসেন কামাল সহ অন্যান্য মহানগরের নেতারা।
গত সোমবার হাজারীবাগে বিএনপির সমাবেশে আহত কর্মী ও পথচারীদের দেখতে আসেন তারা।
প্রথমেই তারা হাসপাতালে ভর্তি দলীয় দুই কর্মী শাহ আলম ও আব্দুল্লাহ আল জাকারিয়ার খোজ খবর নেন। তাদের মধ্যে জাকারিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি মাথায় ও কিডনিতে গুরুতর আঘাত প্রাপ্ত হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যোগাযোগ করেন নানক। সেখানে জাকারিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে চিকিৎসকদের সঙ্গে আলাপ করেন তিনি।
একই সঙ্গে সোমবারের ঘটনায় আহত পথচারী আইরিন আক্তারেরও খোজ খবর নেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতারা। পরে সিকদার মেডিকেলের কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন তারা।











