
জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে ঢাকাসহ দেশের বড় একটি অংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও কুমিল্লার বড় একটি অংশে বিদ্যুৎ নেই। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে মোবাইল এবং ইন্টারনেটেও। মোবাইলে কথা বলতে গেলে কলড্রপসহ ইন্টারনেটের গতিতেও ধীর লক্ষ্য করা গেছে।
সূত্রমতে, ২০১৪ সালের পর এটাই হতে যাচ্ছে বিদ্যুৎ সরবরাহের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়। পূর্ব অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, এই সমস্যার পরিপূর্ণ সমাধানে ৯ ঘণ্টার মতো সময় লাগতে পারে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, বিদ্যুৎ বিপর্যয়, এটা জাতীয় বিপর্যয়। নেটওয়ার্ক সচল রাখতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিয়েছে। ইতোমধ্যে ১ হাজার বিটিএস ক্রিটিক্যালি অ্যাফেক্টেড হয়েছে। জেনারেটর দিয়ে যতটুকু সম্ভব ব্যাকআপ দেয়ার চেষ্টা চলছে। আমি প্রতিনিয়ত অপারেটরদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সম্মিলিতভাবে এই জাতীয় বিপর্যয়ে সেবা সচল রাখার চেষ্টা করছি।
মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) বেলা দুইটার দিকে এই বিপর্যয় ঘটে বলে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) সূত্রে জানা গেছে। বিদ্যুতের পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিড বিকল হওয়ায় এখন দেশজুড়েই চলছে তীব্র লোডশেডিং। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের দুই ঘণ্টা পর থেকে অনেকেই মোবাইলফোনে নিরবিচ্ছিন্ন কথা বলতে পারছেন না। কখনো কখনো সংযুক্ত থেকে কথা শোনা যাচ্ছে না। আবার কোথাও কল হবার রিং টোন শোনা যাচ্ছে না। ইন্টারনেটে বাফারিং হচ্ছে।
এ নিয়ে ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সংগঠন আইএসপিএবি সভাপতি ইমদাদুল হক জানিয়েছেন, তারা জেনারেটর দিয়ে পপ চালু করলেও ব্যবহারকারী পর্যায়ে বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যান্ডউইথ ব্যবহার ৮০ শতাংশ কমে গেছে।
অপারেটরদের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, বিদ্যুৎ সমস্যায় এরই মধ্যে ঝুঁকির মুখে পড়েছে ৩৩ হাজার মোবাইল টাওয়ার ও বিটিএস। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের ১২ হাজার, রবি’র ১১ হাজার এবং বাংলালিংক’র ৯ হাজার সাইটে রয়েছে। কেননা, ঢাকার বাইরের বিটিএসগুলো সাধারণত দুই-তিন ঘণ্টা ব্যাকআপ দেয়।
এ নিয়ে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব এক বার্তায় বলেছে, জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড বিপর্যয়ের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাময়িক সময়ের জন্য টেলিযোগাযোগ সেবা বিঘ্নিত হতে পারে। এই সাময়িক পরিস্থিতির জন্য আমরা দুঃখিত।
বিপিডিপির উপপরিচালক মোহাম্মদ শামীম হাসান জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রিডে কিছু সমস্যার কারণে দেশের অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। আমাদের টিম সব জায়গায় কাজ করতে। সবকিছু ঠিকঠাক হতে তিন-চার ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। আমরা দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।
বিদ্যুৎ বিতরণে সরকারি কোম্পানিটি জানিয়েছে, জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয় দেখা দেওয়ায় প্রায় দুইটা থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও কুমিল্লার অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
পাওয়ার গ্রিডের এক কর্মকর্তা জানান, এই গ্রিডের আওতায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। ফলে এসব বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ নেই বললেই চলে। কী কারণে এই বিপর্যয় হয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
রাতের মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে পিজিসিবি। এর মধ্যে ঘোড়াশাল-টঙ্গীসহ কয়েকটি পাওয়ার প্লান্ট চালু করা হয়েছে।











