
বার্তা৭১ ডটকম:পর্তুগালের রাজধানী লিসবন বর্তমানে আওয়ামী লীগের সম্মেলনের উত্তাপে মুখর। রাস্তার অলিতে গলিতে আওয়ামী লীগের ব্যানার, ফেস্টুনে সয়লাব হয়ে গেছে পুরো শহর। প্রতিটি মোড়ে মোড়ে শোনা যাচ্ছে জহিরুল আলম জসিম ও দেলোয়ার হোসেন পরিষদের জোরালো স্লোগান। দলের নেতা-কর্মীরা সম্মেলনের জন্য উদ্দীপ্ত হয়ে উঠেছেন এবং এই সম্মেলনকে ঘিরে তাদের মধ্যে একটি আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে। পর্তুগাল আওয়ামী লীগের কর্মীদের প্রাণের দাবি, তাদের অভিভাবকদের আগামী ১০ জুলাই সম্মেলনের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করতে হবে।
প্রবাসীদের কল্যাণে আওয়ামী লীগের অবদান
পর্তুগাল আওয়ামী লীগ সবসময় প্রবাসীদের কল্যাণে কাজ করে আসছে। বিগত দিনে, জসিম ও দেলোয়ারের নেতৃত্বে প্রবাসীদের অধিকার আদায়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে এই দল। জসিম ও দেলোয়ারের নেতৃত্বের কারণে পর্তুগালের আওয়ামী লীগ প্রবাসীদের কাছে একটি পরিচিত নাম। তারা প্রবাসীদের নানা সমস্যার সমাধান করতে সাহায্য করেছেন এবং প্রবাসীদের অধিকার আদায়ে সবসময় সরব থেকেছেন। তাদের নেতৃত্বে প্রবাসীরা পেয়েছে নির্ভরতার প্রতীক। তাদের প্রচেষ্টায় প্রবাসীদের অনেক সমস্যা সমাধান হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন ছিল পর্তুগালে বাংলাদেশের এ্যাম্বেসী স্থাপন, এই ধরনের জনহিতকর কাজের জন্য পর্তুগাল প্রবাসীদের মাঝে তারা মানবতার ফেরিওয়ালা হিসেবে পরিচিত। এই দুইজন নেতা পর্তুগালের মাটিতে প্রবাসীদের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন। বর্তমানেও তারা বাংলাদেশে পর্তুগালের এ্যাম্বেসী স্থাপন এর জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
সম্মেলনের প্রস্তুতি ও প্রত্যাশা
আগামী ১০ জুলাই পর্তুগাল আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করা হবে, যা কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে একটি নতুন উদ্দীপনার সঞ্চার করেছে। দলের কর্মীরা তাদের অভিভাবক হিসেবে বিশ্বাসযোগ্য নেতাদের নির্বাচিত করতে চান যারা তাদের কল্যাণে কাজ করবে।
লিসবনের রাস্তায় রাস্তায় সম্মেলনের প্রচার-প্রচারণা চলতে থাকায় পুরো শহর যেন এক উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পোস্টারগুলোতে বিভিন্ন স্লোগান ও দলের আদর্শ প্রচারের মাধ্যমে সম্মেলনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ও উৎসাহের অন্ত নেই। কর্মীরা দলীয় পতাকা নিয়ে রাস্তায় মিছিল করছেন, স্লোগান দিচ্ছেন এবং তাদের নেতাদের সমর্থন জানাচ্ছেন। সম্মেলনকে সফল করার জন্য দলীয় নেতা-কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করছেন।
সম্মেলনের গুরুত্ব
এই সম্মেলন পর্তুগাল আওয়ামী লীগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে যাচ্ছে। নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে দলীয় কর্মীরা তাদের নেতা নির্বাচন করবে, যা দলীয় গঠনকে আরও মজবুত করবে। জসিম ও দেলোয়ারের মতো পরীক্ষিত নেতারা পুনরায় নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যারা ইতোমধ্যে প্রবাসীদের জন্য অনেক কাজ করেছেন।
আওয়ামী লীগের এই সম্মেলন শুধু পর্তুগালের প্রবাসীদের জন্য নয়, বরং পুরো প্রবাসী বাঙালি কমিউনিটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট হয়ে উঠেছে। দলীয় নেতা-কর্মীরা সম্মেলনের সফলতা কামনা করছেন এবং আশাবাদী যে তাদের নির্বাচিত নেতারা প্রবাসীদের কল্যাণে আরও বেশি কাজ করবেন।
সম্মেলনের মাধ্যমে দলীয় ঐক্য এবং নেতৃত্বের পুনর্গঠন হবে, যা পর্তুগাল আওয়ামী লীগকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে এবং প্রবাসীদের কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে সক্ষম করবে। প্রবাসীরা আশা করছেন, নতুন নেতৃত্ব তাদের স্বার্থ রক্ষা এবং উন্নয়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। এছাড়া, সম্মেলনের মাধ্যমে নেতাদের প্রতি তাদের আস্থা ও বিশ্বাস আরও বৃদ্ধি পাবে।
নতুন দিকনির্দেশনা ও সম্ভাবনা
আওয়ামী লীগের এই সম্মেলন পরবর্তী সময়ে প্রবাসীদের জন্য আরও নতুন সুযোগ ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করবে। নতুন নেতাদের মাধ্যমে প্রবাসীদের সমস্যার সমাধানে নতুন দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে। তারা প্রবাসীদের অধিকার সংরক্ষণ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও বেশি মনোনিবেশ করবেন। সম্মেলনটি প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য একটি নতুন আশার আলো হয়ে উঠবে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে।
এই সম্মেলন পর্তুগাল আওয়ামী লীগের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। প্রবাসীরা তাদের নেতাদের কাছ থেকে যেসব প্রতিশ্রুতি ও উন্নয়নের আশ্বাস পেয়েছেন, তা বাস্তবায়নে নতুন নেতৃত্ব আরও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। সম্মেলন শেষে প্রবাসী বাংলাদেশীরা তাদের নতুন নেতাদের কাছে নিজেদের সমস্যাগুলির সমাধানের জন্য আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠবেন।
লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও গবেষক এ্যাড. মোঃ রাসেল মজুমদার।











