
ঢাকা, ১৪ মে: অবিলম্বে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি না দিলে সরকার পতনের আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিএনপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। পুলিশী বাধার কারণে পূর্বঘোষিত গণমিছিল কর্মসূচি বাদ দিয়ে ১৮ দলীয় জোট বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এই বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করে।
দুপুর থেকে গণমিছিল উপলক্ষে প্রায় সব থানা থেকে মিছিল নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে আসে। জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি শরিক দলেরও মিছিল দেখা গেছে। ফকিরেরপুল থেকে কাকরাইলের স্কাউট ভবন পর্যন্ত সড়কে প্রখর রোদ্র উপেক্ষা করে নেতাকর্মীরা অবস্থান নেয়। গণমিছিলের এই সমাবেশ শেষ পর্যন্ত জনসভায় রূপ নেয়।
গণমিছিলের কর্মসূচি পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘‘নেত্রীর নির্দেশে গণমিছিলের পরিবর্তে আমরা আজ সমাবেশের কর্মসূচি করছি। কিন্তু সরকারে যেভাবে আন্দোলনকে দাবিয়ে রাখতে নির্যাতন, মিথ্যা মামলাসহ দমননীতির পথ বেছে নিয়েছে, তা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।’’
তিনি বলেন, “মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর হাজার হাজার মানুষ হত্যা করেছে। বিরোধী দলের ১৩৭ জন নেতাকে গুম করেছে। শত শত নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। এটা কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের কাজ হতে পারে না।”
তিনি বলেন, “সরকার আজ মানুষের কোনো চাহিদাই পূরণ করতে পারছে না। তারা সব দিক দিয়ে ব্যর্থ। রাজনৈতিকভাবেও সরকার দেউলিয়া হয়ে গেছে। তাই বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। সরকার আজ ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়ে ফেলেছে।”
সরকারের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘তারা আকণ্ঠ দুর্নীতিতে ডুবে হয়ে গেছে। পদ্মাসেতুর নির্মাণ প্রকল্প বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির কারণে অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছে। কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টের নামে সরকারের লোকজন কোটি কোটি টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। কিন্তু বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হয়নি।’’
১২ মার্চ ঢাকায় আয়োজিত মহাসমাবেশে ঘোষণা করা ১০ জুনের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নেয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা গণতন্ত্র রক্ষায় আন্দোলন করছি। আমাদের সহনশীলতার একটা সীমা আছে। আমাদেরকে গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করবেন না। তাহলে এটা বাংলার গণতন্ত্রকামী মানুষ কোনো দিন মেনে নেবে না।”
এ সময় ১৮ দলীয় জোটসহ দলীয় সকল অঙ্গসংগঠনকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা ও ১৮ দলীয় জোট নেতাদের মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান তিনি।
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, “বিভিন্ন দেশের কূটনীতিবিদ ও সরকার প্রধানরাও জেনে গেছেন, বাংলাদেশের জনগণ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এখন জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে। তারা সরকার ও বিভিন্ন মহলের সাথে এই ইস্যুতে আলোচনাও করেছেন।”
সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের এপিএসের কাছে অর্থ পাওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী যখন তাকে মন্ত্রীত্ব থেকে বহিষ্কার না করে দফতরবিহীন মন্ত্রী বানালেন, আমরা তখনই বুঝেছিলাম তদন্ত প্রতিবেদনের ফল কি হবে।”
ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা বলেন, “সামনে কঠিন দিন আসছে। আরো কঠিন কর্মসূচি দিয়ে আন্দোলন সফল করা হবে। গুম, হত্যা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে আন্দোলন থামিয়ে রাখা যাবে না।”
বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নাল আবদীন ফারুক।
অন্যদিকে জোট নেতাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী, বিজেপির মহাসচিব শামীম আল মামুন, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব. সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনডিপির চেয়ারম্যান গোলাম মোর্তুজা।










