
শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিশেষায়িত বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। রপ্তানিমুখী শিল্প এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের জন্য অতিরিক্ত ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য শিল্প মালিকদের আবেদন করতে হবে। গতকাল কাওরান বাজারের টিসিবি ভবনে আয়োজিত বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-এর এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সৈয়দ ইউসুফ হোসেন দাম ঘোষণা করেন। তবে মানসম্মত বিদ্যুৎ বা কিউ (কোয়ালিটি) আবাসিক গ্রাহকদের দেয়া হবে কিনা এ বিষয়ে কিছু জানাননি তিনি। সৈয়দ ইউসুফ হোসেন বলেন, বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য ১১ কেভির লাইনের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিটের দাম হবে ১৪ টাকা ৯৯ পয়সা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ৩৩ কেভির জন্য প্রতি ইউনিট ১৪ টাকা ৪৫ পয়সা। ঘোষিত এই দাম বর্তমান বিদ্যুতের দামের চেয়ে সামান্য বেশি হওয়ায় সংযোগ পেতে গ্রাহককে আগ্রহ দেখাতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড গত তিন বছর ধরে কিউ শ্রেণীতে (বিশেষ শ্রেণী) বিদ্যুতের আলাদা গ্রাহক সৃষ্টির মাধ্যমে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। পিডিবি’র পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তরল জ্বালানি ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ অনেক বেশি। এজন্য প্রায় ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ অলস পড়ে আছে। এই তরল জ্বালানি ভিত্তিক বিদ্যুৎ (মানসম্মত ও নিরবচ্ছিন্ন) যদি আগ্রহী গ্রাহকদের সরবরাহ করা যায় তাহলে পিডিবি’র রাজস্ব বাড়বে। পিডিবি যে প্রস্তাব দিয়েছিল তাতে তারা উল্লেখ করে হাইড্রো ফার্নেস অয়েল ভিত্তিক কাটাখালি ৫০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্লান্ট, হরিপুর বিএমপিপি ১১০ মেগাওয়াট, মেঘনাঘাট ১০০ মেগাওয়াট, সিদ্ধিরগঞ্জ ১০০ মেগাওয়াট কুইক রেন্টাল, নওয়াপাড়া ৪০ মেগাওয়াট কুইক রেন্টাল, কেরানীগঞ্জ ১০০ মেগাওয়াট কুইক রেন্টাল ও খুলনা ১১৫ মেগাওয়াট কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট ৭০ শতাংশ হারে চালানো হবে। এতে ৫০০ মেগাওয়াট বাড়তি বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। ফলে শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেয়া সম্ভব হবে, সেই সঙ্গে বতর্মানে শিল্পে সরবরাহ করা বিদ্যুৎ অন্য গ্রাহকদের সরবরাহ করা হলে লোডশেডিং কমবে।
পিডিবি আবাসিকে প্রতি ইউনিট ১৩ দশমিক ১৫ টাকা, শিল্পে ১৬ দশমিক ৭৩ টাকা (১৩২ কেভি লাইন), ১৭ দশমিক ৫২ টাকা (২২ কেভি লাইন) ও ১৮ দশমিক ২৩ টাকা (১১ কেভি লাইন) মূল্য নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেছে। পিডিবি উল্লেখ করেছে, তাদের উল্লিখিত আটটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে জ্বালানি, সঞ্চালন ও অন্যান্য খাত মিলিয়ে প্রতি ইউনিটে গড় খরচ পড়বে ১৫ দশমিক ৯৬ টাকা। এদিকে, কিউ শ্রেণীর গ্রাহক হতে হলে বিদ্যুৎ লাইন, সাব স্টেশন স্থাপনসহ অবকাঠামো উন্নয়নের খরচ গ্রাহককে বহন করতে হবে। যে কেউ চাইলে গ্রাহক হতে পারবেন। তবে কাউকে বাধ্য করা যাবে না। এছাড়া একই সঙ্গে দুই শ্রেণীর গ্রাহক থাকা যাবে না। যে কোন একটি গ্রহণ করতে হবে।










