
ঢাকা, ৩০ এপ্রিল: সরকার ভয় পেয়ে শীর্ষ নেতাদের নামে এ ধরনের মামলা দিয়েছে দাবি করে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, “দমন-পীড়ন আর মামলা দিয়ে আন্দোলন থামানো যাবে না।” তিনি অবিলম্বে শীর্ষ নেতাদের নামে দায়ের করা ভিত্তিহীন ও বানোয়াট মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
ইলিয়াস আলীকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে পাঁচ দিনের হরতালের চতুর্থ দিনে দলের শীর্ষ ৪৫ নেতাকর্মীর নামে বোমা বিস্ফোরণ ও গাড়ি পোড়ানো মামলা দেয়ার পর সোমবার বেলা সাড়ে তিনটায় চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, “গতকাল দায়ের করা দু’টি মামলায় দলের সক্রিয় সব নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অনেক নেতাকর্মীর বাড়িতে তল্লাশি করা হয়েছে।” তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।
মওদুদ আহমদ বলেন, “সরকার দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তাদের পায়ের নিচে মাটি নেই। তাই একের পর এক অপরাধ করে যাচ্ছে।”
তিনি দাবি করেন, “সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ঘুষ কেলেঙ্কারি থেকে মানুষের দৃষ্টি অন্য দিকে ফেরাতে ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়েছে। এখন ইলিয়াস আলীকে ফিরে পাওয়ার জন্য যারা আন্দোলন করছে তাদের নামে মামলা দিচ্ছে। এতে মনে হয় দেশে কোনো সরকার নেই। দেশ পরিচালনায় সরকারের যদি নিয়ন্ত্রণ থাকতো তাহলে ইলিয়াস আলীকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিত।”
সরকার যতই কৌশল করুক কোনো লাভ হবে না দাবি করে মওদুদ বলেন, “১৮ দলীয় জোট সরকারকে ছেড়ে দেবে না। সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন বন্ধ হবে না।”
তিনি বলেন, “বিরোধীদল আদালত ও রাজপথে সরকারকে মোকাবেলা করবে।”
আজ হরতাল শেষে নতুন কী কর্মসূচি দেয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “নতুন কর্মসূচি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ঘোষণা করবেন।”
সকাল থেকে মহাসচিব দলীয় কার্যালয়ে যাননি কেনো জানতে চাইলে তিনি বলেন, “দলীয় কার্যালয় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ঘিরে রেখেছে। তার বাসায় পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে। পুলিশ যেতে দেয়নি বলেই তিনি কার্যালয়ে যেতে পারেননি।”
মহাসচিব কোথায় আছেন এ প্রশ্ন কৌশলে এড়িয়ে যান ব্যারিস্টার মওদুদ।
এক মামলায় বিএনপি থেমে গেছে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের এ বক্তব্যের জবাবে মওদুদ বলেন, “তার কথার জবাব আমি দিই না। তবে এক মামলায় বিএনপি থেমে গেছে কি-না তা দেখা যাবে।”
বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ের এই সংবাদ সম্মেলনে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি খোন্দকার মাহবুব হোসেন, খালেদা জিয়ার প্রেসসচিব মারুফ কামাল খান এবং বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।









