
ঢাকা, ১৬ মে: বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের নেতাদের হরতালে গাড়ি পোড়ানো মামলায় জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে জেলে পাঠানো ও রিজভীসহ গ্রেফতারকৃদের মুক্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার সারা দেশে সকাল সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে জোট।
বুধবার নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘‘উচ্চ আদালতের নির্দেশে নেতৃবৃন্দ আজ নিম্ন আদালতে জামিন নিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু আদালত তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। মামলায় অভিযুক্ত নেতৃবৃন্দকে এফ আই আর চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয় নি। আবার ঘটনার দিন চারজন আসামি ঢাকার বাইরে ছিল। এমন যুক্তিসংগত বক্তব্য উপস্থাপন করার পরও আদালতের এমন আদেশ হতাশাজনক।’’
তিনি বলেন, ‘‘সরকার দুর্নীতি, সন্ত্রাস, হত্যা ও গুমরে রাজনীতি শুরু করেছে। যা দেশ ও জাতির জন্য অশনি সংকেত। আর এরই অংশ হিসেবে ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়েছে। এবং এই গুমের ঘটনাকে ধামাচাপা দেবার জন্য ও জণগনের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার জন্যই ১৮ দলের নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘জণগণের নানামুখী অসুবিধার কথা চিন্তা করে হরতালের মতো কর্মসূচি দেয়ার অভিপ্রায় ছিল না। এমনকি আমাদের মঙ্গলবারের দলীয় সংবাদ সম্মেলনও সে ধরনের কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি। কিন্তু সরকারের অগণতান্ত্রিক ও আইনের শাসন লঙ্ঘন ও স্বৈরাচারি আচরণের প্রতিবাদে হরতাল কর্মসূচি দিতে হলো।’’
এ সময় তিনি বৃহস্পতিবার সারা দেশে সকাল সন্ধা হরতাল সফল করার জন্য দেশ বাসির প্রতি আহবান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শাহজাহান ওমর, হারুনুর রশিদ, আহমেদ আযম খান, যুগ্ম-মাহসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন, বরকত উল্লাহ বুলু, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীকে ফেরত দেয়ার দাবিতে গত ২৯-৩০ এপ্রিল সারা দেশে সকাল সন্ধ্যা হরতাল চলাকালে তেজগাঁয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে একটি বাস পোড়ানোর অভিযোগে বিএনপিসহ জোটের ৪৪ নেতার নামে পুলিশ বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করে। ওই মামলায় আজ দুপুরে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন আবেদন করলে মহানগর হাকিম মো. এরফান উল্লাহ জামিন না মঞ্জুর করে ৩৩ জন নেতাকে জেলে পাঠায়।
এর মধ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এমকে আনোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অব. আসম হান্নান শাহ, মির্জা আববাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, এলডিপির সভাপতি কর্নেল অব. অলি আহমদ, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, এনপিপি সভাপতি শেখ শওকত হোসেন নীলুসহ নেতৃবৃন্দ।












