
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা তুলতে দেশটিতে ‘লবিস্ট’ নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। বুধবার (৫ জানুয়ারি) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনার পর ‘লবিস্ট’ নিয়োগের পক্ষে মত দেয়া হয়।
বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন। ওই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তখন আলোচনা হবে।
সংসদীয় কমিটি মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের কাছে বাংলাদেশের বিষয়ে নেতিবাচক তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। কোনো না কোনো লবিস্ট গ্রুপ আর পিআর প্রতিষ্ঠান এ কাজটি করছে। এ কারণে বাংলাদেশেরই উচিত এর কাউন্টার হিসেবে সে দেশের লবিস্ট নিয়োগ করা। সংসদীয় কমিটি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দিয়েছে।
ফারুক খান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর বা কংগ্রেসম্যানদের সঙ্গে অনেকে লবিং করে। এসব কাজের জন্য লবিস্ট আছে। পিআর প্রতিষ্ঠান আছে। সে কারণে অনেক নেতিবাচক তথ্য তাদের কাছে উপস্থাপন করা হয়। আমাদের এখানে কাজ করতে হবে। কমিটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রে যদি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে লবিস্ট নিয়োগ করা হয়, তাহলে আমাদের সঠিক তথ্য আমরা সেখানে পৌঁছাতে পারব।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে ১০ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ দপ্তর ‘গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন’র অভিযোগে বিভিন্ন দেশের ১৫ ব্যক্তি ও ১০ প্রতিষ্ঠানের সম্পদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেয়।
এ তালিকায় বাংলাদেশের র্যাবের সাবেক ও বর্তমান ৭ কর্মকর্তার নাম যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করার কথা বলেছে সে দেশের পররাষ্ট্র দফতর। নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিক্রিয়ায় ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলারকে তলব করে সরকারের অবস্থান জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই বার্তা তাকে ওয়াশিংটনে পৌঁছে দিতে বলা হয়।
নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ঢাকার অসন্তোষের মধ্যে ১৫ ডিসেম্বর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনের সঙ্গে ফোনালাপ হয় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিংকেনের। পরে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠিও পাঠান মোমেন।
সংসদীয় কমিটির বৈঠকে অংশ নেয়া একজন জানান, বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা মনে করছে, ভূরাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশ বর্তমানে খুব গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞার পেছনে ভূরাজনীতিও জড়িত।
ফারুক খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন, প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, নুরুল ইসলাম নাহিদ, গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স এবং মো. আবদুল মজিদ খান অংশ নেন।











