অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি এবং সামাজিক নিরাপত্তার অভাব থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভের পথ বেছে নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রোববার এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবের কারণে সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং টেকসই শান্তি ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সৃষ্টি হচ্ছে গণজাগরণের।”
২০১০ সালের শেষ দিকে আরব বিশ্বে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংসতা শুরু হলে তিউনিশিয়া, মিশর, লিবিয়া ও ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসকের পতন ঘটে। গণমাধ্যমে সাধারণ মানুষের এই আন্দোলন পরিচিতি পায় ‘আরব গণজাগরণ’ হিসাবে।
‘টেকসই’ শান্তির জন্য ন্যায়বিচারকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসাবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “এটা তখনই অর্জন করা সম্ভব, যখন ক্ষমতায়নের মাধ্যমে জনগণকে অর্থপূর্ণ উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত করা যাবে।”
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজধানীর হোটেল রূপসী বাংলায় ‘জনগণের ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন’ শীর্ষক এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী জনগণের ক্ষমতায়নের জন্য দারিদ্র্য ও ক্ষুধা বিমোচন, বৈষম্য দূরীকরণ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে বঞ্চনার অবসান, সবার জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, টেকসই ও সমতাভিত্তিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, মানবসম্পদ উন্নয়ন জোরদার করা এবং উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, এসব বিষয় পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত এবং প্রণোদনামূলক।”
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬৬তম সাধারণ অধিবেশনে ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’ নিয়ে একটি মডেল উপস্থাপনের বিষয়টিও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।
বক্তব্যের শুরুতেই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, শান্তি, ন্যায়বিচার ও উন্নয়নের জন্য ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’ সম্পর্কিত যে মডেল আমি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৬তম অধিবেশনে উপস্থাপন করেছিলাম, তা আপনাদের হৃদয়ে স্থান পেয়েছে।”
পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনির সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস। অন্যদের মধ্যে নেপালের উপ প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী নারায়ণ কাজি শ্রেষ্ঠ, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রী জি এল পেইরিস, ভারতের পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী জয়রাম রমেশ, ভূটানের পূর্ত মন্ত্রী লিওনপো জেশি জিমবা, মালদ্বীপের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলী হামীদ, জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জন ক্লস এবং ইউনেস্কোর উপ মহা পরিচালক গিটাশিউ এনিডা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।










