ঢাকার অদূরে সাভারের আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে একটি গার্মেন্টস কারখানায় আগুন লেগে ১২৪ নিহত এবং দুইশতাধিক আহত হয়েছেন। এখনো দুইশতাধিক শ্রমিক নিখোঁজ আছে বলে জানা গেছে। নিহতদের মরদেহ নিশ্চিন্তপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে নেয়া হয়েছে। সেখান তেকে মরদেহ নিহতদের আত্মীয় স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) মেজর মাহবুব জানান, কারখানার তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় উদ্ধার কাজ শেষ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি মৃতদেহ পাওয়া যায় তৃতীয় তলায়। তিনি আরও জানান, আগুনে পুড়ে মৃতদেহগুলোর অধিকাংশই বিকৃত হয়ে গেছে।
সকালে লাশ বের করতে দেরি হওয়ার অভিযোগ করে নিহত ব্যক্তিদের আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় লোকজন ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় তারা পুলিশ ও কারখানা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশন নিশ্চিন্তপুরে পৌঁছেছে। সব মরদেহ নিশ্চিন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে নেওয়া হচ্ছে। সেখানে আত্মীয়স্বজনরা এসে লাশ শনাক্ত করবেন।
শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তোবা গ্রুপের গার্মেন্টস কারখানা তাজলিন ফ্যাশনে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট কাল রাত থেকে চেষ্টা চালিয়ে ভোরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যা সাতটার দিকে তাজরীন ফ্যাশন লিমিটেড নামের ওই গার্মেন্টস কারখানার নয়তলা ভবনের নিচতলার গুদামে আগুন লাগে। ধীরে ধীরে তা অন্য তলায় ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ওই কারখানায় দুই হাজারের মতো পোশাকশ্রমিক কাজ করছিলেন। আগুন দেখে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে শতাধিক আহত হন। অনেকেই আটকা পড়েন ভবনের ভেতরে। প্রাণে বাঁচতে অনেকে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত হন।
নিহতদের মধ্যে একজনের নাম জুলেখা। অন্যদের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। আহতদের বেশিরভাগই নারী শ্রমিক। অগ্নিদগ্ধ বহু নারীশ্রমিককে স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অন্তত ২০ থেকে ২৫ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ওই কারখানার শ্রমিক মনির হোসেন জানান, সাতটার দিকে আগুন লাগার পরপরই বিপদ সংকেত বাজানো হয়। এ সময় প্রাণভয়ে সবাই তাড়া হুড়া করে নামতে গিয়ে আহত হন।
ওই কারখানার ব্যবস্থাপক সোহরাব হোসেন জানান, একদিন আগেই চীন থেকে সাড়ে তিন কোটি টাকার সূতা আনা হয়েছিল। একতলার গুদামে ওই সূতা ও কাপড় ছিল। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত।
সাভার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মনোয়ার হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে তাঁরা চারজনের মৃত্যুর খবর জেনেছেন।
এদিকে বিজেএমইএ’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এছাড়া নিহতদের লাশ দাফনের সর্বাত্মক সহায়তা করবে সেনাবাহিনী।











