
বার্তা৭১ ডটকমঃ
চোরাচালান রোধে সীমান্ত হাটের পরিসর বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বৈধ পথে বাণিজ্যের হার বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভারত সরকার এই ব্যাপারে একমত হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, অবৈধ বাণিজ্য রোধে সীমান্ত হাটকে গতিশীল করার বিষয়টি নতুন সমঝোতা স্মারকে রাখা হয়েছে। এমওইউর চূড়ান্ত খসড়া অনুযায়ী, ক্রেতাদের লেনদেনের পরিমাণ ১০০ থেকে বাড়িয়ে ২০০ ডলার করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। আগের চেয়ে পণ্যের সংখ্যা ও পরিমাণ বাড়ানো হবে। প্রত্যেক হাটে এখন ২৫ জন করে বিক্রেতা থাকলেও তা ৫০ জন করা হবে। আগে সমঝোতা সইয়ের মেয়াদ তিন বছর ছিল। এখন প্রতি পাঁচ বছর পর নবায়ন করা হবে। হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের প্রবেশ ও বাহির হওয়ার সময় ইলেকট্রনিকস প্রমাণ রাখতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে হাটের পাঁচ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের লোকজন কেনাবেচায় অংশ নিতে পারেন। নতুন চুক্তিতে এ আয়তন বাড়ানো হবে।
সূত্রমতে, সীমান্তে চোরাচালান রোধে ধীর্ঘদিন ধরে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সক্রিয় রয়েছে বিভিন্ন সংস্থাও। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হলেও পরিস্থিতির আশানুরূপ কোনো উন্নতি হয়নি। তাই বিকল্প উদ্যোগের অংশ হিসেবে সরাসরি বাণিজ্যের জন্য সীমান্ত হাটের পরিসর বাড়াতে একমত হয়েছে প্রতিবেশী দেশ দুটি।
সূত্রমতে, এ হাটের কার্যক্রম আরো গতিশীল করার মাধ্যমে সীমান্ত এলাকার নাগরিকদের চাহিদা পূরণে নতুন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। সেজন্য পণ্য কেনাবেচার পরিমাণ, বিক্রেতার সংখ্যা ও আয়তন বাড়ানো হচ্ছে।
সম্প্রতি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডবিল্গউসি) বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে উভয় দেশের মধ্যকার ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্ট, শুল্ক ও অশুল্ক বাধা, বিএসটিআইয়ের মান সনদ গ্রহণ, আমদানি-রফতানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন। ৯ বছর পর গত বছরের মে মাসে বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠক ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
বৈঠকের বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র বলেন, সীমান্ত হাটের সমঝোতা স্মারক নবায়ন করা হবে। বৈঠকে এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে শিগগির তা সই করা হবে। এতে হাটের পরিসর আগের চেয়ে বাড়বে। এ সমঝোতা সই হলে উভয় দেশের সীমান্ত বাণিজ্যও বাড়বে।
তিনি বলেন, বৈঠকে বাণিজ্য বাধা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন পণ্য রফতানিতে যেসব বাধা রয়েছে তা সমাধানের প্রস্তাব দেয়া হয়।
তিনি আরো বলেন, বিএসটিআইর মান সনদ গ্রহণসহ অন্যান্য বিষয়ে বৈঠকে ভারতীয় প্রতিনিধি দল ওই দেশের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কথা জানান।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, শুরু থেকেই ভারত ২২টি বর্ডার হাট স্থাপনের কথা বলছে। বাংলাদেশের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ১৪টি সীমান্ত হাট স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন। এগুলো যাচাই-বাছাই করে আরো ৯টি হাট স্থাপনে সম্মত হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। দুটি হাট নির্মাণের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে। বাকি সাতটি হাট স্থাপনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এ সাতটি হাটের বেশিরভাগ মেঘালয় ও ত্রিপুরা সীমান্তে স্থাপন করা হবে।
এছাড়া বর্তমান কুড়িগ্রাম, সুনামগঞ্জ, ফেনী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে চারটি সীমান্ত হাট চালু রয়েছে। সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী দুই দেশের ৪৭টি করে পণ্য বেচাকেনার কথা। কিন্তু নানা জটিলতায় দীর্ঘদিনেও হাটে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসেনি। সে কারণে এসব হাট আরো যুগোপযোগী করতে কৌশল নেয়া হচ্ছে চুক্তি নবায়নে।
বৈঠকে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর বিষয়টিকেও জোর দেয়া হয়েছে। তাছাড়া নৌ প্রটোকলের আওতায় তৃতীয় দেশে ট্রানজিট পাওয়া, এন্টিডাম্পিং ও কাউন্টারভেলিং শুল্ক বাধা দূর করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিএসটিআইর মান সনদ দেয়া পণ্যকে গ্রহণ করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। যদিও এতে ভারতের আইনি জটিলতা আছে। শিগগির তা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে ভারত।
বৈঠকে স্থলবন্দরগুলোকে আরো সক্রিয় করতে আলোচনা হয়েছে। স্থলবন্দরের ১৬টি অবকাঠামো উন্নয়ন করার বিষয়ে একমত হয়েছে উভয় দেশ। আগামী মাসে সেজন্য বাংলাদেশ সফরে আসবে ভারতীয় প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলের সফর শেষে দ্রুত এ অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। বাংলাদেশ থেকে রবার রফতানিতে সমস্যার বিষয়টি বৈঠকে তুলে ধরা হয়।
কর্মকর্তারা জানান, এরই মধ্যে কয়েকটি শিপমেন্ট বাতিল হয়েছে। স্থলবন্দর দিয়ে পাঠানো যাচ্ছে না। এ বিষয়টি সুরাহার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। রাবারের ক্ষেত্রে এ দেশের পরীক্ষা সনদ গ্রহণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।












