
বার্তা ৭১ ডট কমঃ পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির ‘কাল্পনিক’ অভিযোগ এবং চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্ব ব্যাংক সদর দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ।
বুধবার স্থানীয় সময় বেলা ১২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত (বাংলাদেশ সময় রাত ২টা পর্যন্ত) এই সমাবেশে বিশ্ব ব্যাংকের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় এবং পরে ব্যাংকের মহাসচিব বরাবরে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
এ সময় আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের হাতে ঋণচুক্তি পুনর্বহালের দাবিতেও বিভিন্ন শ্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
এসব প্ল্যাকার্ডে লেখা দেখা যায়- ‘চুক্তি বাতিল করে বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের সঙ্গে অন্যায় করেছে’; ‘যে প্রকল্পে একটি পয়সাও দেওয়া হয়নি- সেখানে দুর্নীতি হয় কীভাবে’; ‘বিশ্ব ব্যাংকের সদস্য হিসাবে ঋণ পাওয়া আমাদের অধিকার’; ‘বিশ্ব ব্যাংককে অবশ্যই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে’।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতারা সমাবেশে বিশ্বব্যাংকের সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন। তারা অভিযোগ করেন, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার ব্যাহত করতে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের ফাঁদেই পা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার নূরনবী, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী, ওয়াশিংটন ডিসি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী বাকি এই সামাবেশে বক্তব্য দেন।
প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কোনো অন্যায় অপবাদ মেনে নেবে না।
সমাবেশ শেষে বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমের বরাবরে লেখা একটি স্মারকলিপিও দেওয়া হয়। প্রেসিডেন্টের পক্ষে বিশ্ব ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বিক্ষোভস্থলে এসে তা গ্রহণ করেন বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান।
‘বিশ্বাসযোগ্য তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই অনুমানের ভিত্তিতে বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষকে অপমান করেছে”- শিরোনামের ওই স্মারকলিপিতে বলা হয়, “আমরা চাই, পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির যে অভিযোগ আনা হয়েছে বিশ্ব ব্যাংক তা প্রত্যাহার করুক এবং কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কানাডা ও বাংলাদেশে চলমান তদন্তের ফলাফল পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুক।”
দুর্নীতির বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে দাবি করে গত ২৯ জুন ১২০ কোটি ডলারের এই ঋণচুক্তি বাতিল করে বিশ্ব ব্যাংক। ২৯০ কোটি ডলারের এই প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংকই ছিল সবচেয়ে বড় অংকের ঋণদাতা।
চুক্তি বাতিল হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, নিজস্ব অর্থায়নেই যতো দ্রুত সম্ভব পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে। সোমবার এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদে একটি সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব ব্যাংকের পরিবহন ও যোগাযোগ বিষয়ক পরামর্শক ড. আনোয়ারুল করিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাংকের সামনে এককভাবে কোনো দেশের নাগরিকদের এ ধরনের বিক্ষোভ দেখা যায়নি।











